এবার ছায়া দিয়েই জ্বলবে আলো

এবার ছায়া দিয়েই জ্বলবে আলো

 

আলো আর ছায়া দুটোই আমাদের জীবনের অঙ্গ। কিন্তু আমরা আলো পছন্দ করি, উতসব অনুষ্ঠানে আলো জ্বেলে স্বাগত জানাই, ছায়াকে উপেক্ষা করি। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই ছায়ার ভিতরে আছে আলোর সমান শক্তি? কী বললেন? তাও আবার হয় নাকি? আচ্ছা, মনে করুন ছায়াশক্তির মাধ্যমেই যদি আপনি আপনার ঘরের আলো, পাখা বা অন্যান্য ছোটোখাটো বৈদ্যুতিন যন্ত্র চালাতে পারেন তাহলে কেমন হয়? দারুণ হয় তাই না! এতদিন সৌরশক্তির কথা শুনে এসেছেন কিন্তু ছায়াশক্তির নামটা অচেনা লাগছে তাই তো? তাহলে আপনাকে জানাই সৌরশক্তির চেয়ে অনেক কম খরচে এই ছায়া শক্তি উৎপন্ন হতে পারে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন শ্যাডো-এফেক্ট এনার্জি জেনারেটর, এই নিয়ে তাঁরা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্পর্কিত জার্নাল ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টার সাইন্স’-এ বিস্তারিত জানিয়েছেন। এই প্রযুক্তিতে আলো-ছায়া দুইয়ের মেলবন্ধন দরকার হয়। বিজ্ঞানীরা এই জেনারেটরটিতে সিলিকন তারের উপরে সোনার আস্তরণ ব্যবহার করেছেন। এর উপরে আলো পড়লে ইলেকট্রনগুলির ভোল্টেজ বেড়ে গিয়ে তা সোনার আস্তরণের উপরে চলে যায়। সোনার আস্তরণযুক্ত অংশটি ছায়ার দিকে থাকে, ফলে এর ভোল্টেজ অনেক কম থাকে। কাজেই ইলেকট্রনগুলো আলো থেকে ছায়ার দিকে গেলে বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হয়। এমনকী আলো ও ছায়ার তফাৎ যত বেশি হয় ততই বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

গবেষকদের মতে, খুব অল্প আলোর মাধ্যমে এই রকম আটটি শ্যাডো-এফেক্ট এনার্জি জেনারেটর ব্যবহার করে তাঁরা বৈদ্যুতিন গাড়িও চালিয়েছেন। সাধারণ সোলার সেলের চেয়ে এই পদ্দতিতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে অনেক কম খরচ হয়। তাই এই গবেষকরা মনে করছেন এই জেনারেটর হয়ত অচিরেই সোলার সেলের পরিপূরক হয়ে উঠবে। এই আবিষ্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও। তবে তাঁদের অনেকের মতে, সোলার সেলের মতো সর্বক্ষেত্রে হয়ত এই জেনারেটর ব্যবহার করা যাবে না, যেসব জায়গায় সীমিত শক্তির চাহিদা রয়েছে, সেইসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভবিষ্যতে ছায়াশক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠবে কিনা তা সময়ই বলবে, কিন্তু ছায়ারও যে শক্তি আছে, তা যে আমরা জানতে পারলাম, এটাই বা কম কী!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *